গরু-ছাগলের পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়ার রোগের সহজ চিকিৎসা

গরু-ছাগলের পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়ার সহজ চিকিৎসা

গরু-ছাগলের পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়ার


গরু-ছাগলের পেট ফাঁপা কিন্তু খামারের দুর্বল ব্যবস্থাপনার একটা লক্ষণ। বিশেষ করে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এব সালফারের ভারসাম্য নষ্ট হলেই গরু-ছাগলের পেট ফোলে। এছাড়া খাবারে অনিয়ম, হঠাৎ খাবার পরিবর্তন বা প্রথমেই বেশি পরিমানে নতুন খাবার দেয়া, পচা বাসি বা নোংরা পানি খাওয়ানো, ইউরিয়া মোলাসেস তৈরিতে উপাদানগুলো বিশেষ করে ইউরিয়ার পরিমান সঠিকমাত্রায় ব্যবহার না করলেও পেট ফাঁপতে পারে। 

অর্থাৎ যেকোনো অনিয়ম থেকেই গরু-ছাগলের পেট ফুলতে পারে। এ কারণে আমাদের দেশের খামারিদের এটি একটি সাধারণ সমস্যা। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন খামার ও পরিচ্ছন্ন জীবাণুমুক্ত খাবার এবং ব্যালেন্স ডায়েট অর্থাৎ সব পুষ্টিমান পরিমান মতো নিয়মিত খাওয়ালে সেই খামারের কোনো গরু-ছাগলের পেট ফোলার সমস্যা হওয়ার কথা না। এরপরও যদি এসমস্যার মুখে পড়েন তাহলে কিছু ঘরোয়া উপায়েই মুক্তি মিলবে। তবে পরিস্থিতি খুব জটিল হলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

গরু ও ছাগলের পেট ফাঁপার লক্ষণ

খাওয়া বন্ধ করবে; হাঁটাচলা করবে না শুয়ে থাকবে; বামপাশের পেট ফুলে যাবে; খুবই পীড়িত দেখাবে, চোখ বসে যাবে; প্রস্রাব পায়খানা করতে কষ্ট হবে; দ্রুত শ্বাস নেবে- মুখ হা করে জিহ্বা বের করে শ্বাস নিতে পারে; দুর্বল দেখাবে।

গরু ও ছাগলের ডায়রিয়া রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

পশুর পেট ফোলা যদি সামান্য হয় তাহলে প্রাপ্তবয়স্ক গরু হলে এক লিটার সয়াবিন তেল (রান্নার তেল) গলা দিয়ে ঢুকিয়ে দিন। এটি লুব্রিকেন্টের মতো কাজ করতে তাতে সহজেই পেটে জমা গ্যাস বেরিয়ে আসবে। তবে এই তেল ঢুকানোর আগে অবশ্যই গরুকে একটু হাঁটাহাঁটি করাতে হবে। নিজে থেকে না করলে জোর করে করাতে হবে। তেল দেয়ার পর আবার হাঁটিয়ে নিতে হবে। এরপর এক টেবিল চামচ ডলোচুন বা ডলোঅক্সিচুন বা ডলোমাইট পাউডারের সঙ্গে সমপরিমান সামুদ্রিক শৈবাল বা স্পিরুলিনাও হতে পারে আধা লিটার সিডার ভিনেগারে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে। পুরোটা খাইয়ে দিতে হবে। পেট ফাঁপা মারাত্মক হলে পেট থেকে গ্যাস বের করে দিতে হবে। যদি এটি দ্রুত না করা হয় তবে প্রাণীটি ফুলে যাওয়া এবং শ্বাসরোধে মারা যাবে। পেট দিয়ে গ্যাস বের করে দিতে হয়। এই বিষয়ে যদি আপনার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকে তবে আপনি নিজেই এটি কখনই করতে পারবেন না। একজন সুপরিচিত ডাক্তারকে ফোন করুন। এটি করলে দ্রুত গ্যাস বেরিয়ে যাবে। অবশ্যই মনে রাখবেন, যে অস্ত্র দিয়ে পশুর পেট ফুটা করা হবে সেটি যেন আগে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করে নেয়া হয়। পেট ফুটা করে গ্যাস বের করে দেয়ার পর আধা লিটার সিডার ভিনেগারের সাথে এক টেবিল চামচ সমুদ্র শৈবাল মিশিয়ে খাইয়ে দিন। এতে পশু দ্রুত সেরে উঠবে। সঙ্গে একটি ভিটামিন সি ইনজেকশন (২০ সিসি যথেষ্ট) দিলে ভালো হয়। তাতে ক্ষত দ্রুত সারবে।


গরু-ছাগলের পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়ার


ডায়রিয়া

পেট ফাঁপা একই কারণগুলোর কারণেও পশুর ডায়রিয়া হতে পারে। এছাড়া খুবই নিম্নমানের খাবার, খাবারে যথেষ্ট মিনারেল না থাকা অথবা অভ্যন্তরীণ পরজীবীর (কৃমি) কারণে পশুর ডায়রিয়া হয়। তবে বিশেষত কপারের অভাব হলে ডায়রিয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ কারণে মাঝেমধ্যে কপার গুঁড়ো খাওয়াতে হবে।

ঘরোয়া চিকিৎসা

পশুর দিকে খেয়াল রাখুন। কোনোভাবেই পানিশূন্যতা যেন না ভোগে। নিয়মিত স্যালাইন খাওয়ান। প্রাপ্তবয়স্ক গরুকে এক টেবিল চামচ ভিটামিন সি পাউডার এবং সমপরিমান ডলোমাইট পাউডার পানিতে মিশিয়ে খাইয়ে দিন। বাছুরের জন্য অর্ধেক পরিমানই যথেষ্ট। দুই টেবিল চামচ কপার পাউডার এবং সমপরিমান ভিটামিন সি সকালে ও রাতে দুইবার দুই দিন খাওয়ালেই সেরে যাওয়ার কথা।